মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ এপ্রিল ২০১৮

“মাদ্রাসা শিক্ষাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কারিগরী শিক্ষাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে”। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব শীর্ষক মতবিনিময় সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী


প্রকাশন তারিখ : 2018-04-03

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮ ॥
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এমপি বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কারিগরী শিক্ষাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার কথা সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুই অনুধাবন করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে যে শিক্ষা কমিশন হয়েছিল সেখানে কর্মমুখী শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে যেত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই কাজটিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আজ (৩ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁওস্থ সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সাফল্য অর্জন করেছে। শেখ হাসিনার সরকার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের তরুন সমাজকে ধ্বংস করছে মাদক ও জঙ্গিবাদ। পশ্চিমা শক্তিগুলো ইসলাম ও জঙ্গিবাদকে একসাথে করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বিশ্বে যত বড় বড় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয়েছে সেখানে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ছিল না। মদীনা সনদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা যেটি মহানবী (সা) দিয়ে গেছেন সেটি ছেলেমেয়েদের শিখাতে হবে। ফিতনা সৃষ্টিকারী শিক্ষা বাদ দিতে হবে।  ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা যদি ছড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা ও মাদ্রাসার শিক্ষার এত উন্নয়ন হয়েছে যা অন্য কোন সরকারের আমলে হয়নি। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা পূরণের পাশাপাশি জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হবে। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচার-অশান্তি দূর করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, দ্বীনি শিক্ষা মজবুত করতে পারলে বাংলাদেশের আলেম-ওলামা বিশ্ব শান্তির ঢাল হতে পারবে। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) সারা জগতের জন্য রহমত হিসেবে এসেছেন। তিনি মদীনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসেননি। খোলাফায়ে রাশেদীন কেউ ইসলামিক স্টেট কিংবা মুসলিম স্টেট করেননি। তাই ইসলামিক স্টেট ও মুসলিম স্টেটের নামে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের ইসলামের সাথে প্রকৃত ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভেইজি দেহনবি (অননধং ঠধবুর উবযহধার), ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম ছায়েফ উল্যা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র সাহা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নর সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা কাফীলুদ্দীন সরকার ও বিশিষ্ট আলেম আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সভায় শতাধিক আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ অংশ নেন

 


Share with :
Facebook Facebook