মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ অক্টোবর ২০১৫

যাকাত ফান্ড বিভাগ

         ১৯৮২ সালের ৫ জুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এক অধ্যাদেশ বলে যাকাত ফান্ড গঠন করবেন এবং এ ফান্ড পরিচালনার জন্য উক্ত অধ্যাদেশে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট যাকাত বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড-এর সিদ্ধান্ত সমূহ সদস্য-সচিব তথা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক যথানিয়মে বাস্তবায়ন করে থাকেন। যাকাত ফান্ড অর্ডিন্যন্স ১৯৮২ সাল থেকে ৬৪ জেলায় বৃত্তবানদের নিকট হতে সংগৃহীত মোট অর্থের অর্ধেক পরিমাণ অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ অর্থাৎ ৫০% অর্থ সরাসরি জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে গরীব ও অসহায়দের মদ্যে বিতরণ করা হয়। জেলা যাকাত কমিটি যাকাত আদায় ও বিতরণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাছাড়া আর্থিক সাহায্য প্রাপ্তির জন্য যারা যাকাত বোর্ড কার্যালয়ে আবেদন করে থাকেন,তাদের আবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃক যাচাই-বাছাই পূর্বক জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমেই বিতরণের জন্য প্রদান কার্যালয় হতে অর্থ প্রেরন করা হয়ে থাকে। যাকাত ফান্ডের একটা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ দ্বারা টঙ্গী যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। যাকাতের অর্থে বিভিন্ন জেলায় ২৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়ে থাকে।

১৯৮২ সাল তেকে ২০১৩-১৪ অর্ত বছর পর্যন্ত যাকাতবোর্ড কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১৩,২২,৫৩,৭৬২/- টাকা, উপকারভোগীর সংখ্যা ৭,১৮,৮০৬ জন। যাকাত ফান্ডের সংগৃহীত অর্থ দ্বারা পরিচালিত কাযক্রম সমূহ নিম্নরূপ:

১. যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতাল: এ কাযক্রমের আওতায় টঙ্গীস্থ শিশু হাসপাতাল পরিচালনার মাধ্যমে দু:স্থ শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৩-১৪ অর্ত বছর পর্যন্ত দু:স্থ শিশুদের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে ১,০৮,৪১,৯৬০/- টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ৬,৫৯,১৫৪ জন।

২. সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম (২৩টি কেন্দ্র):

২. এ কার্যক্রমের আওতায় ২১ জেলায় ২৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দু:স্থ মহিলাদের কর্মক্ষম করার ক্ষেত্রে সহয়তা প্রদান করা হচ্ছে। শুরু থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত ১,৭৭,১৮,০০০/- টাকা ব্যয়ে ১৭,৭৩৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েরছ।

৪. পুর্নবাসনের উদ্দেশ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী দু:স্থ মহিলাদের সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২০১০-১১ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫১,৬৭,৫০০/- টাকা ব্যয়ে ৯২১ জনকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

৫. প্রতিবন্ধী পুর্নবাসন: প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহয়তার মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ১১,০০,০০০/- টাকায় এ পর্যন্ত ২২০ জনকে পুর্নবাসনের লক্ষ্যে সহয়তা করা হয়েছে।

৬. দু:স্থ পুরুষদের কর্মসংস্থান কার্যক্রম: রিকসা/ভ্যানগাড়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুঁজি প্রদানের নিমিত্ত জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে দু:স্থ পুরুষদের কর্মসংস্থানের জন্য ১,৩৩,৩৭,০৮৮/- টাকা ব্যয়ে ২৪৩৭ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

৭. যাকাত ভাতা: হাঁস মুরগী, গরু-ছাগল পালন, সেলাই মেশিন প্রদানের মাধ্যমে বিধবাসহ দু:স্থদের সমাজ জীবনে পুনর্বাসনের নিমিত্ত ১,৪৯,৯৮,০২০/- টাকা ব্যয়ে ৭৩০২ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

৮. শিক্ষাবৃত্তি প্রদান (ছাত্র/ছাত্রী): দরিদ্র মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদেরকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে ১,২০,৪৭,৪৮১/- টাকায় ১৫৪২২ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

৯.  নওমুসলিম স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম: দু:স্থ নওমুসলিদের আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা দানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের নিমিত্ত ১৮,৪০,০০০/- টাকায় ১৮৪ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

১০. দু:স্থ ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহয়তা কার্যক্রম দু:স্থ, অসহায় গরীব রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ৪০,০৯,১৪৩/- টাকায় আর্থিক সহয়তার মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়েছে ৯১৭ জনকে।

১১. ৩টি পার্বত্য জেলায় নওমুসলিমদের আর্থিক সাহায্য: ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে এ কার্যক্রমের আওতায় পার্বত্য জেলায় নওমুসলিমদের ২৩,০০,০০০/- টাকায় ৪৬০ জনকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করা হয়েছে।

১২. মঙ্গা/প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ১,৫৩,০৪,২৭৩/- টাকায় ৫,৪৪৪ জনকে সহয়তা প্রদান করা হয়েছে।

১৩. বৃক্ষরোপন/নার্সরী সহয়তা কার্যক্রম: দু:স্থ অসহায় গরীব ইমামগণের বৃক্ষরোপন/নার্সারী বাবদ সহয়তার মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নসহ অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১,৯৮৪ জনকে ২৪,২০,০০০/- টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

১৪. এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪টি জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে এ যাবৎ সংগৃহীত টাকার ৫০% টাকা প্রতিবনধী পুর্নবাসন, দু:স্থ পুরম্নষদের কর্মসংসত্মান কার্যক্রম, যাকাত বাতা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, নওমুসলিম স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম এবং দু:স্থ-গরীব রোগীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহয়তা কার্যক্রম খাতে জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

১৯৮২ সাল থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত যাকাত বোর্ড এর কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বমোট ১৩,২২,৫৩,৭৬২/- টাকা ব্যয়ে ৭,১৮,৮০৬ জনকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

৩. কোন নির্দিষ্ট বছরে অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহের পর বৈধভাবে অর্জিত ৭.৫০ তোলা স্বর্ণ বা ৫২.৫০ তোলা রৌপ্য বা সমমূল্যের অর্থ সম্পদের মালিক হলে তার উপর শতকরা ২.৫০ ভাগ যাকাত আদায় করা ফরয। যাকাত বোর্ডের সকল কার্যক্রম ইসলামী শরীয়াহ মুতাবিক পরিচালিত হয়। পবিত্র কুরআনে সূরা আত-তাওবা’য় নির্ধারিত ৮টি খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করার জন্য বলা হয়েচছ। যাকাত বোর্ড বাস্তবতার আলোকে বিভিন্ন কার্যক্রম/কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে যাকাতের যাকাতের অর্থ নিঃস্ব ও অসহায়দের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করা যাচ্ছে।

৪. (ক) রাষ্ট্রয়ত্ব সকল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের যে যেকোন শাখায় ‘সরকারী যাকাত ফান্ড’শিরোনামে নির্ধারিত একাউন্ট নম্বরে যাকাতের অর্থ জমা নেয়া হয়। (খ) রশিদ প্রদানের মাধ্যমে নগদে অথবা চেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমস্থ দপ্তরসহ আগারগাঁওস্থ যাকাত বোর্ড দপ্তরে এবং ৬৪ জেলা কার্যালয়ে যাকাতের অর্থ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। (গ) যাকাতের অর্থ আয়কর মুক্ত। 


Share with :