মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ মার্চ ২০১৫

ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি

১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। দেশের সর্বসত্মরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকলেও একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ‘ইসলামি সংহতি’ ও ‘মুসলিম ভ্রাতৃত্ব’ অটুট রাখার অজুহাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং তৎকালীন পাকিসত্মানি স্বৈরশাসক গোষ্ঠী ও হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মেলায়। ইসলামের ভুল-ব্যাখ্যা করে তারা সরলপ্রাণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ইসলাম-বিরোধী কাজ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী জনগণকে ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত করে। শুধু প্রচার-প্রচারণা নয়, ইসলামের অপব্যাখ্যা করে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হত্যা-লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী সকল অনৈসলামিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের এই তৎপরতা ছিলো সম্পূর্ণ অন্যায় ও ইসলামি আদর্শের পরিপন্থি। মুক্তিযুদ্ধ ছিলো হানাদার জালিমের বিরুদ্ধে মজলুম জনগণের ইসলাম সম্মত এক সর্বাত্মক ন্যায়যুদ্ধ। ওই সময় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ইসলাম-বিরোধী কর্মকান্ডের কারণে দেশ-বিদেশে শামিত্মর ধর্ম ইসলামের ভাব-মর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। 

এই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মাবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এরই ফলশ্রম্নতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামি আদর্শের যথাযথ প্রকাশ তথা ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ছিলো জাতির জনকের সুদূরপ্রসারী চিন্তার এক অমিত সম্ভাবনাময় স্বর্ণফসল।


লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 

১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ প্রণীত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট। এই অ্যাক্ট অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নরূপ: 

মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র, একাডেমী , ইন্স্টিটিউট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ বা সেগুলোকে আর্থিক সাহায্য প্রদান-যাতে সেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে ইসলামের প্রচার-প্রসার সম্ভব হয়; 

সংস্কৃতি, মনন, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিম অবদান সম্পর্কে গবেষণার ব্যবস্থা; 

সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও ন্যায় বিচার সংক্রামত্ম ইসলামের মৌলিক আদর্শের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা; 

ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে অধ্যয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান, গবেষণাক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ আবদানের জন্য পুরস্কার এবং পদক প্রবর্তন ও প্রদান, এ সমসত্ম বিষয়ে আলোচনা, বক্তৃতা, বিতর্ক-সভা, সেমিনার ইত্যাদির আয়োজন, গবেষণা ও আলোচনাপ্রসূত গ্রন্থ, প্রবন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ, অনুবাদ, সংকলন, সাময়িকী এবং পুসিত্মকা প্রকাশ ইত্যাদি; 

উপরিউক্ত কর্মসূচি সংক্রামত্ম প্রকল্প রচনা, সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাসত্মবায়নে সাহায্য-সহায়তা দান এবং ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনুকূল অন্য যে-কোনো কর্মসূচি গ্রহণ। 

বোর্ড অব গভর্নরস

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনসত্ম একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বোর্ড অব গভর্নরস। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম বাসত্মবায়নের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও সার্বিক নির্দেশনা প্রদান, তত্ত্বাবধান, পর্যবেক্ষণ বোর্ড অব গভর্নরস-এর কাজ। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী পদাধিকারবলে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট এই বোর্ডের চেয়ারম্যান। উক্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য হিসেবে আছেন: মাননীয় সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত ইসলামি চিমত্মাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ। 

সাংগঠনিক কাঠামো

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। দেশের সকল জেলা সদর ও বিভাগীয় শহরে এর শাখা কার্যালয় এবং ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সব মিলিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের অন্যতম প্রধান এবং ধর্মীয় সেক্টরে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সারা দেশে ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। 

সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক। তিনি  প্রেষণে বা চুক্তিভিত্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ নির্বাহী হিসেবে এর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ বোর্ড অব গভর্নরস-এর সিদ্ধামত্মসমূহ বাসত্মবায়নের দায়িত্ব তঁার ওপর ন্যসত্ম।

ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সুষ্ঠু বাসত্মবায়নে তঁাকে সহযোগিতার জন্য আছেন ১ জন সচিব, ১৪ জন পরিচালক, ৭ জন প্রকল্প পরিচালক ও ১ জন প্রকল্প ব্যবস্থাপক (প্রেস)। এঁরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব বিভাগে র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

জনবল: ইসলামিক ফাউন্ডেশনে রাজস্ব ও উন্নয়ন-উভয় খা তের জনবল রয়েছে। 

তহবিল: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তহবিলের প্রধান উৎস জি.ও.বি বা বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ। রাজস্ব ও উন্নয়ন-উভয় খাতের বরাদ্দ প্রধানত সরকার থেকে আসে। এ ছাড়া রয়েছে বই বিক্রি, দোকান ভাড়া  থেকে আয় ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত আয়। 

কার্যক্রম: ইসলামিক ফাউন্ডশনের রাজস্ব ও উন্নয়ন- উভয় খাতের কর্মসূচি বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে বাসত্মবায়িত হয়। এগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ: 

প্রশাসন বিভাগ: একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অনুকূল পরিবেশ, স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও সার্বিক সফলতা প্রধানত নির্ভর করে তার প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জনবল-ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শিতা ও পারঙ্গমতার ওপর। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগ এ ক্ষেত্রে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। 

সমন্বয় বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহের কার্যক্রমের সমন্বয় ও ফলোআপ এ বিভাগের প্রধান কাজ- বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা অফিসগুলোয় বরাদ্দকৃত অর্থ প্রেরণসহ কার্যক্রম পরিচালনা ও বাসত্মায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব এ বিভাগের। প্রতিবছর দেশব্যাপী জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনসহ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস উদযাপন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী জাতীয় শিশুদিবস উপলখ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন, পনেরই আগস্ট জাতির জনকের শাহাদত-বার্ষিকী উপলখ্যে দেশব্যাপী হিফয ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন, যৌতুক প্রতিরোধ, মাদকাসক্তি, শিশু ও নারী পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ায় ৮টি হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালনা, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে বাসত্মবায়ন, জেলা পর্যায়ে চঁাদ দেখা কমিটির কার্যক্রম বাসত্মবায়ন ও হজ্জ ব্যবস্থাপনা, যাকাত সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য মাঠ পর্যায়ে ইমাম বাছাই, জেলা কার্যালয়ের লাইব্রেরী পরিচালনা, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন এবং সেগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন ও মূল্যায়ন, জেলা অফিসসমূহের বাড়ি ভাড়া চুক্তি নবায়ন ইত্যাদি নানা কর্মসূচি সুচারম্নভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমন্বয় বিভাগ সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে। প্রধান কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভা আয়োজনের দায়িত্বও এ বিভাগের। 

অর্থ ও হিসাব বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব সংক্রামত্ম যাবতীয় কাজ এ বিভাগের আওতাভুক্ত। ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুযায়ী রাজস্ব খাতের অর্থ ছাড়করণের ব্যবস্থা, যথাযথভাবে ব্যয়-ব্যবস্থাপনা ও এতদসংক্রামত্ম রেকর্ড-পত্র সংরক্ষণ, মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসের তহবিল নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ, অর্থ ও হিসাব সংক্রামত্ম নীতিমালা প্রণয়ন, বাসত্ম-বায়ন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা আপত্তির নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি কাজ অর্থ ও হিসাব বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। 

পরিকল্পনা বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের সকল প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ ও বাসত্মবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং এ সংক্রামত্ম প্রতিবেদন প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়করণসহ যাবতীয় কাজ, এডিপি প্রণয়ন, সুপারভিশন, পরিসংখ্যানগত তথ্যাদি প্রণয়ন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক প্রতিবেদন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে/বিভাগে প্রেরণ ইত্যাদি কাজ এ বিভাগের আওতাভুক্ত। 

ইসলামিক মিশন: ইসলামের মানবতাবাদী ও সেবাধর্মী বৈশিষ্ট্যের বাসত্মব রূপায়নে এ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। দুস্থ, দরিদ্র ও অনগ্রসর মানুষের চিকিৎসা-সেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রত্যমত্ম অঞ্চলের সহায়-সম্বলহীন জনগণকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) ও সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান, নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং মসজিদভিত্তিক মক্তব ও নৈশ মক্তব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, নূরানী পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন ও নামায শিক্ষা প্রদান, পবিত্র কুরআনের তাফসীর ও ইসলামি আদর্শে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠান বাসত্মবায়নের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসার; মুবালিস্নগ, নওমুসলিম ও মক্তব শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে জীবন যাপনে জনগণকে সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করা, বৃক্ষ রোপণ ও বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছোবল থেকে দেশকে রক্ষায় সহযোগিতা ইত্যাদি মানব-কল্যাণমুখী নানা কর্মসূচি বাসত্মবায়ন করছে ২৮টি জেলার প্রত্যমত্ম অঞ্চলে অবস্থিত ইসলামিক মিশনের ৩১টি কেন্দ্র। এ ছাড়া বায়তুল মুকাররমস্থ ইসলামিক মিশন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ৪০% কমিশনে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে সেবা প্রদান করে ইসলামিক মিশন কেন্দ্রগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে। 

সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে ইসলামিক মিশন বিভাগের অর্জন উলেস্নখযোগ্য। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বায়তুল মুকাররমস্থ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এবং ৩১টি মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তদের সংখ্যা ২ কোটি ২ লক্ষ্য ৯৭ হাজার ৭০০ জন। ইসলামিক মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্র আয়োজিত চক্ষু শিবিরে ১৭ হাজার ৪০২ জনকে চক্ষু চিকিৎসা এবং সুন্নতে খাতনা শিবিরে ১ হাজার ৫ শত ৬৮ জনকে সুন্নতে খাতনা করানো হয়েছে। 

দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ: ইসলামের শিক্ষা, আদর্শ, সৌন্দর্য ও চিরমত্মন মহিমা-স্নিগ্ধ পরিশুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার-প্রসার ও সমুন্নতকরণে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাসত্মবায়ন এ বিভাগের কাজ। এ লক্ষ্যে ইসলামের কল্যাণময় বৈশিষ্ট্যাবলি হাইলাইট করে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা, দরসে হাদীস, ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। মহানবী (সা)-এর অনুপম শিক্ষা ও আদর্শ ব্যাপকভাবে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর ঢাকায় পক্ষকালব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানমালার আয়োজনসহ ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসসমূহ ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয় এ বিভাগের মাধ্যমে। শুধু পুরম্নষদের জন্য নয়, উলিস্নখিত অনুষ্ঠানমালা মহিলাদের জন্যও আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় এ বিভাগের মহিলা শাখার মাধ্যমে। আমত্মর্জাতিক কিরাত ও হিফ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগী বাছাই ও প্রেরণ, জাতীয় পর্যায়ে ফিতরা নির্ধারণ, প্রতিমাসে জাতীয় চঁাদ দেখা কমিটির সভা আয়োজন; মহিলা শাখার মাধ্যমে দরিদ্র ও দুস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা, মহিলাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পাঠাগার পরিচালনা প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করছে দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব, দুবাই, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, মিশর, জর্দান, তুরস্ক, আলজেরিয়া, ভারত, পাকিসত্মান প্রভৃতি দেশে আয়োজিত হিফ্য, ক্বিরাত ও তাফসীর প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ১১০ জন হাফেজ, ক্বারী ও মুফাসসির বিভিন্ন মানের পুরস্কার অর্জন করেছেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ সব পুরস্কারের আর্থিক মূল