মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ অক্টোবর ২০১৫

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্প:

‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পর ১ম পর্যায়ের শ কার্যক্রম অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত (৫ম পর্যায়) চলমান রয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক প্রকল্পটির ১ম পর্যায় শেষ হয় ১৯৯৫ সালে। এ পর্যায়ে মোট ৭৪,৮৮০ জন শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষাদান করার লক্ষমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও জন-চাহিদার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত আরও ১৯,৭১০ জন সহ মোট ৯৪,৫৯০ জন শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরতে শিক্ষা প্রদান করা হয়। তদ্রম্নপ দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত ১,১২,৩০০ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৭,২৩,৮৮০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাদান করা হয়। প্রকল্পের শিক্ষা কার্যক্রম-এর ১ম ও ২য় পর্যায় সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে জুলাই ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল মেয়াদ সম্প্রসারিত আকারে ৩য় পর্যায় প্রকল্প গৃহীত হয়। ধারাবাহিকভাবে চলমান ও প্রকল্পটির আওতায় ৩য় পর্যায়ে ৬৪ জেলার ২৫৬ টি উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল যার মাধ্যমে ১৬,৪৩,০৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সাল তেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প গৃহীত হয় যার মাধ্যমে ২৯,৩৭,৬০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক ও পবিত্র কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়।প্রকল্পটির আকার পর্যায়ক্রমে বৃদ্দি পেয়ে বর্তমানে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ দেশের শিক্ষা সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে যুযোপযোগী ভুমিকা পালন করে আসছে। এ প্রকল্পে মসজিদের ইমামগণ মসজিদ কেন্দ্রে শিশু ও বয়স্ক  শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা, অংক, ইংরেজি, আরবী নৈতিকতা ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত স্থানে এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার ও কোর্স সম্পন্নকারীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বৃদ্দির ক্ষেত্রে উলেস্নখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী অধিকাংশই সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠী। এ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জন, সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ জন।

মূলত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝড়ে পড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী ও অক্ষর জ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। সকলের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯৯৩-২০০৮ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রমের ইতোমধ্যে ৪টি পর্যায় শেষ হয়েছে। উক্ত ৪টি পর্যায়ে (১ম পর্যায় হতে ৪র্থ পর্যায় পর্যন্ত) ৫৩,৫৮,৭৫০ জনকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে প্রকল্পটির ৫ম পর্যায়ের কার্যক্রম কলেবরে বৃদ্ধি করে ১ম দফায় জানুয়ারী/২০০৯ হতে ডিসেম্বর/২০১৩ মেয়াদের জন্য ৬৪৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ১ম সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে তা ৩১ ডিসেম্বর/২০১৪ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৭৬৮ কোটি ৩৩ লক্ষ ব্যয়ে গৃহীত হয়ে যথযথাভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যে ৫ম পর্যায়ে শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারী ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৩১,৮০,০০০ জন,সহজ কুরআন শিক্ষা পর্যায়ে ২১,০০,০০ জন ও বয়স্ক শিক্ষা পর্যায়ে ৯৬,০০০ জন সহ মোট ৫৩,৭৬,০০০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দান করা হয়েছে যার অগ্রগতি ১০০%। এ হিসেবে প্রকল্প কার্যক্রম শুরু অর্থাৎ প্রথম পর্যায় ১৯৯৩ সাল হতে ৫ম পর্যায়ের ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কুরআন শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা সহ মোট ১ কোটি ৭  লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৫০ জনকে শিক্ষাদান করা হয়েছে। চলমান ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ শেষ হলে ১১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২০০ জনকে শিক্ষা দানসহ প্রকল্প শুরুর প্রথম পর্যায় হতে ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সর্বমোট ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৫০ জনকে শিক্ষা দানের কাজ সম্পন্ন হবে। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং ধর্মীয় পুস্তক পাঠদানের জন্য ৪৮৫টি মডেল ও ১০৫১ ডঁ সাধারণ রিসোর্স সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে।  এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ‘মসজিদ ভিত্তিক মিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রস্তাবিত ৬ষ্ঠ পর্যায় প্রকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তির হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী ৩২,০০০টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৪৪,১০,০০০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, বয়স্ক সত্মরের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে ৭৬৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯৬,০০০ জন বয়স্ক (পুরুষ, মহিলা এবং জেলকানার কয়েদী) নিরক্ষরকে স্বাক্ষরতা  এবং ধর্মীয় শিক্ষা এবং ৪১,০০০টি সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫১,১০,০০০ জন স্কুল গামী শিক্ষার্থী ও ঝড়ে পড়া কিশোর-কিশোরীদের শুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষাদান ও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া নব্য ও স্বল্প শিক্ষা প্রাপ্তদের জন্য জীবনব্যাপী (অব্যাহত) শিক্ষা চর্চা ও বিভিন্ন বিষয় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশের ৫২০ টি রিসোর্স সেন্টার পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ৮১০৬৭ জন জনবলের নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃস্টি করা হবে। সর্বমোট ৭৩৭৬৮ টি শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং ৯৬,১৬,০০০ জনকে শিক্ষা প্রধান করা হবে। শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষা কেন্দ্র ও রির্সোস সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ৭৭৬৩৫ জন জনবলের নিয়মিত ও অনিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। লক্ষ্য মোতাবেক সকলের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা সৃস্টি এবং সচেতনতা সৃস্টি করা হবে। 


Share with :
Facebook Facebook